সুখের সন্ধানে

আসসালামু-আলাইকুম , কেমন আছেন সবাই ? আশাকরি সবাই ভাল আছেন , নিজের কিছু অবিজ্ঞতা শেয়ার করতে ইচ্ছে হল , তাই লিখতে বসে পড়লাম ,

সবার আগে কয়েকটি প্রশ্ন করি, যেহেতু আর্টিকেলের নাম রেখেছি “সুখের সন্ধানে” তাই সুখ নিয়েই আমার প্রশ্ন !

(১) আপনি কি সুখের সন্ধান করছেন ?

(২) আপনি কি সুখ পেয়েছেন ?

(৩) বর্তমানে সুখে আছেন ?

(৪) নাকি সূর্য উদয় হচ্ছে , এইতো সুখ আসবে বলে ?

আপনার উত্তর যাইহোক না কেন , মনে মনে রাখুন কেননা আপনার উত্তরটি হতে হবে ইউনিক, আপনার উত্তরে বোঝাতে হবে আপনি চিন্তাশীল , আপনি জীবন তরীর একজন ভাবুক !

যাইহোক শিশুকাল থেকেই শুরুকরি ভাবছেন কত কিছু লাগবে মা-বাবা দিচ্ছে না তাই আপনি খুশি না মানে সুখি না , কত জায়গায় যেতে ইচ্ছা কিন্তু মা-বাবা যেতে দিচ্ছে না , লেখাপড়ার ঝামেলাতো আছেই ,পড়তে বসে মনে মনে ভাবছেন এখন একটু ঘুমাতে পাড়লে বা ভাই বোনের সাথে আড্ডা দিতে পাড়লে ভাল হত , কিন্তু সেই স্বাধীনতা আপনার নেই , আপনার জীবনটাই কারাগারের মতো হয়েগেছে , চোখের সামনেই দেখছেন একজন সুখি মানুষ যার চলার পথে কোনো বাঁধা নেই, হ্যাঁ আপনার পিতার কথায় বলছি , যখন যেটা খুশি করছে , যখন যেখানে খুশি যাচ্ছে,  কেউ বাঁধা দেয় না কত সুখি তিনি তার জায়গাতে আপনি থাকলে জীবনটা কত সুখের-ই না হত !

এসব ভাবতে ভাবতেই শিশুকাল চলে গেছে চিন্তা-ভাবনায় পরিবর্তন এসেছে , জীবনের গুরুপূর্ণ এক স্থানে এসে দাড়িয়েছেন, নতুন সপ্ন চোখে বাসা বেঁধেছে , সুখ এইতো এলো বুঝি আর তো কয়েকটা দিন ভাল একটা চাকরী নিতে পারলেই টাকা আর টাকা , আর জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময় টা টাকা ছাড়া পার করা সম্বাব নয়, মা-বাবার কষ্ট অনুভব করতে শিখে গেছেন তাই টাকার জন্য চাপ দেওয়া দূরের কথা যা দিচ্ছে তা থেকে কিছুটা বাচিয়ে তাদের কষ্ট হাল্কা করার চেষ্টা করছেন , এই কষ্টের দিন থাকবেনা বেশি দিন সুখ এসে যাবে চাকরী টা হয়ে যাক ! ভাবতে ভাবতে শেষমেষ চাকরিও হয়েগেছে , কাজ করছেন মাস শেষে বেতন আসছে কিন্তু সুখটাই আসছে না , আসবেই বা কি করে সকাল ৭টায় ডিউটিতে যাচ্ছেন আর ফিরছেন রাত ৮ টা-১০ টায় , ডিউটির মাঝেই দিন শেষ নিজেকে সময় দেবেন কখন ?  

তার পরেও চাকরী ছাড়া যাবে না কেননা স্বপ্নগুলো এটাকে ঘিরেই ,দিন দিন দায়িত্ব বাড়ছে , ছোট ভাই বোনের ভবিষ্যত আপনাকেই গড়তে হবে, বাবার তৈরী বাড়ীটা পুরোনো হয়েগেছে , নতুন করে সাজাতে হবে কারণ এই বাড়ীতে নিজের একটি নতুন সংসার হবে , এই ভেবে আর পরিস্থিতির চাপে পড়ে আজকের স্বপ্ন আর সুখগুলি নিজের অজান্তেই পরিবর্তন করতে শুরু করেছে আপনাকে বাধ্য করেছে বলতে আজকের সুখ আপনার জন্য নয়, তবে আপনি বোঝতে পারছেন সুখ অতি নিকটে এইতো আর কয়েকটা দিন ,

সুখ খুঁজতে খুঁজতে শিশু , কৈশুর , কিশোর কাল পার হয়ে যৌবন শেষ হবার পথে , এখন বিয়ে করতে হবে, বিয়ের পড়েই সুখের জীবন মনেহয় সুখের হতে যাচ্ছে, এইভেবে বিয়েটাও করে ফেললেন , নতুন বৌ ঘরে এসেছে “কিন্তু না” সুখটা আসেনি ! বরং অশান্তি এসেছে আগের চেয়ে কয়েকগুন বেশি, আপনাকে প্রতিদিন দেখতে হচ্ছে বৌ শাশুড়ির যুদ্ধ , অবশ্য তারাও নিজ নিজ সুখের সন্ধানে যুদ্ধ করছে,  বৌ টা কখনো চাইনা তার ভাইয়ের বৌ কখনো তার মায়ের অবাধ্য হোক অথচ এখানে এসে এই নীতি তার মাঝে নেই , আপনার মা ও চাইনা আপনার বোনের শাশুরী আপনার বোনকে নির্যাতন করুক অথচ নিজের ছেলের বৌয়ের বেলায় এই নীতি তার মাঝে দেখা যায় না , আসলেই আমরা মানুষ জাতি বড়ই অদ্ভুত আর আর্শ্চয্য জনক এক জীব !

যাইহোক তবে এটা সত্য যে সুখ আপনার অতি নিকটে,  এত যন্ত্রনার মাঝেও আপনি সুখের গন্ধ পাচ্ছেন কেননা আপনার সংসার আজ নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছে (আপনার সন্তানের কথা বলছি) তার ভবিষ্যত গড়তে হবে মানুষের মত মানুষ করতে হবে , বাচ্ছা হাটতে শিখেছে এখন স্কুলে পাঠাতে হবে তারপর কলেজে , বেতন যা পান কোনমতে ছেলে-মেয়ের পড়াশুনা আর সংসারের খরচ চালাতে পারছেন . তার মাঝে সংসারের কেউ অসুস্থ হলে কিংবা ছেলেমেয়ের আব্দার পূরণ করছে আজকাল আউট ইনকামের রাস্তাও খোজছেন , বয়স হয়েছে ৪৫ এর উপর কোথায় বিশ্রাম করবেন তার আর উপায় রইল না কারন এইতো সুখ এসে গেল বুঝি ছেলের চাকরটা হয়ে যাক তার পরেই সুখ আর সুখ , এভাবেই কেটে গেছে আরোও কয়েকটা বছর , আপনার বয়স হয়েছে অন্যদিকে ছেলে চাকরী পেয়েছে তাই আপনি চাকরী থেকে অবসর গ্রহণ করলেন পেনশনের টাকাও ব্যংকে চলে এসেছে ৪০ লক্ষ , এইবার সুখ পালাবি কোথায় ধরা তোকে দিতেই হবে “কিন্তু নাহ্” সুখ এল না, হাতে সময় আছে, পকেটে টাকা আছে কিন্তু পায়ে জোর নেই , চোখে আলো নেই , কানে শোনতে পান না, আরোও কতশত রোগ দেহে বাসা ভেদেছে , এখন ছেলে মেয়ে সবার কাছে বোঝা হয়ে আছেন  এমন অবস্থাই সুখ আসবে কি করে ?  

আজ মনে মনে ভাবছেন , সুখ আসলে কি ? খায় না মাথায় দেয় ? কিভাবে রান্না করতে হয় ? কোন বাজারে পাওয়া য়ায়?আসলেই কি সুখ বলতে কিছু আছে ? 


প্রিয় পাঠক, শুরুতেই কয়েকটি প্রশ্ন করেছিলাম , এখন উত্তর দেওয়ার সময় হয়েছে , নিজেকে এই প্রশ্নগুলি করুন এবং নিজেই নিজের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করুন , আমি জানি সবাই উত্তর পেয়ে গেছেন তার পরেও আমি সুখ সম্পর্কে আমার মতামত তুলে ধরছি:- আমার মতে সুখ মনের একটি অবস্থা বা অনুভূতি যা ভালোবাসা, তৃপ্তি, আনন্দ বা উচ্ছ্বাস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তবে ভিন্ন ভিন্ন লোকের কাছে তার অর্থ ভিন্ন মনে হতে পারে ! অনেকে মনে করে মানুষের টাকা পয়সা, বাড়ি, গাড়ি নারী এসব থাকলেই তারা সুখি মানুষ,  আসলে এগুলো কি প্রকৃত সুখ ?

“ না “এগুলো প্রাচুর্য, সুখ নয় , কেউ গাছ তলায় বসবাস করেও সুখী আবার কেউ দশ তলায় থেকেও সুখী নয়.  তাই বলি সুখ প্রত্যেকটি মানুষের একটি সুক্ষ অনুভূতি ছাড়া আর কিছুই নয়. 
তাই বলবো আসুন আমাদের যার যা আছে তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি আর মাঝে মাঝে তাদের দিকে তাকাই যারা আমাদের থেকে করুন অবস্থায় আছে, তাহলেই দেখবেন আপনি আমি, আমরা সবাই একটা নির্মল সুখ আর আনন্দের সন্ধান পেয়ে গেছি.
নিজেকে যখনই অসুখী মনে হবে তখনই নিচের দিকে তাকাবো, কখনো যেন উপরের দিকে না তাকাই তাহলেই আমার সুখ যতই থাকুকনা কেন তা অদূরে হারিয়ে যাবে, সবাই সামর্থ অনুযায়ী সুখে থাকার চেষ্টা করি নয়তো জীবনটাই মাটি হয়ে যাবে শুধু অসুখে আর অসুখে , এই অসুখকে কেউ যেন না ডাকেন


 ————  এই প্রত্যাশায়  ———……….আজকের মত বিদায় নিচ্ছি……..,,,,,আবারও হাজির হব অন্য কোনো বিষয় নিয়ে,,,,,“”সে পর্যন্ত ভাল থাকুন , ভাল রাখুন, সুস্থ থাকুন””~~~~~~~~~ আল্লাহ্ হাফেজ ~~~~~~~~~~

পোষ্টটি আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন !
Share on Facebook
Facebook
6Pin on Pinterest
Pinterest
0Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin

Leave a Reply